জীবনের সবচেয়ে হাসির অভিজ্ঞতা

তো রেজিস্ট্রেশনের পর থাকার কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, মহাকাশ গ্যালারিতে গিয়ে কথা বলতে । লাফাতে লাফাতে গেলাম সেখানে। আর যেতেই মেজাজটা নব্বই ডিগ্রি পলটি মারলো । গিয়ে দেখি, একটা গেলারির ভেতরে সরকারি হাসপাতালের মত মাদুর আর বালিশ বিছিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার উপর ফ্যানগুলো ঠিকঠাক কাজ করে না । তার উপর মোবাইলেরও চার্জ দেওয়ায় ভালো বেবস্থা নেই। প্রায় ৬০০ বর্গ ফুট গেলারির ভেতর মোবাইল চার্জ দেওয়ায় মাত্র তিনটা সকেট আছে। আর মানুষ আছে দুইশরও বেশি। বাথরুমের পেছনেও এত বড় লাইন নেই যত বড় লাইন এই তিন সকেটের পেছনে আছে । তাই ভাবলাম কিছুক্ষন অপেক্ষা করি, যদি কোনো ব্যবস্থা হয় ; কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায় কোনো ব্যবস্থা আর হল না । এদিকে আমার গাইড টিচারেরও আর আসার নাম নেই । মাদুরে শুয়ে থেকে রাত কাটাতে পারতাম , মশার কামোড় খেতে পারতাম কোনো সমস্যা ছিল না , কিন্তু মোবাইল চার্জ দিতে পারবনা এটা কিভাবে সহ্য করা যায় ? তাই রাত আটটা বাজে চুরি করে ব্যগ সহ বেরিয়ে যাই । চলে যাই খালার বাসায় । সেখানে রাতটা কাটিয়ে আবার সকাল আটটায় চলে আসি । পরে আমার গাইড টিচারের সাথে দেখা হয় । কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর আমাদের লাইব্রেরির হল রুমে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে প্রতিযোগীদের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় জমজমাট ভাবে। মনে মনে বলি, শালা থাকার জায়গা দেওয়ায় টাকা নাই আর এখানে মানুষ দেখাইতে আলগা আদর মারাইতে আসছে । যাই হোক পরীক্ষা হবার কথা ছিল ১০ টায় ; শুরু হল ১১ টায় । সময় ১ ঘনটা ৩০ মিনিট। পরীক্ষার প্রশ্নটা হাতে পেয়েই মেজাজটা এমন খারাপ হল ,যে ইচ্ছা করছিল পরীক্ষা বাদ দিয়ে সবগুলা গার্ডকে ইচ্ছা মত কতক্ষন থাপরাই । শালা নেওয়ার কথা সাধারন জ্ঞান মুলক কুইজ প্রতিযোগিতা, তাই সারারাত ধরে সাধারন জ্ঞান পড়ে রাখসি আর না। বিসিএস পরীক্ষা দিলেও হয়তো ফার্স্ট হোতাম । আর তারা প্রশ্ন করলো আমারই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি আর অংক বই থেকে। সাথে আবার বায়োলজিও আছে । তিন মাস ধরে এই বই গুলার সাথে কোনো সম্পর্কই ছিল না । তাই পরীক্ষা যেমন হবার তেমনি হল । বসে বসে ঘাস কাটসি আর যে প্রশ্ন করসে তাকে ইচ্ছা মত গালি গালায করলাম। পারলে তো খাতার মধ্যেও গালি গালায করতাম ।

20170425_165911.jpg
Me (right) and Rohit(left/selfie taker)

এর মধ্যে আবার আমার পাশে যে বসেছিল তার সাথে ভালো বন্ধুত্ত্ব করে ফেলি । তার নাম রোহিত , শেরপুর থেকে এসেছে । প্রথমেতো তার নাম মনেই রাখতে পারতাম না । অনেক পরে গিয়ে তার নামটা মুখস্ত হয়েছে । পরে সারাদিন তার সাথেই চলাফেরা করেছি । আমার গাইড টিচার যে কই ছিলো সেই খোজ আর নেই নি । তো পরীক্ষার পর অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । এমনিতেই বাংলা গান শুনি না , তার উপর যদি হয় আগের দিনের গান , তাহলে তো হলই কাজ । আবার বেরতেও পারবনা কারন অনুষ্ঠানের পর খাবার দেওয়া হবে । বেরিয়ে গেলে দুপুরে না খেয়ে থাকতে হবে । এক প্যাকেট বিরিয়ানির জন্য যে বাঙালি কি পরিমান কষ্ট সহ্য করতে পারে সেটা সেদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম । যাইহোক দুই ঘন্টার অত্যাচারের পর অবশেষে মুক্তি পেলাম । পরে কিউরেটর আমাদের নিয়ে যান নভথিয়েটারে । সেখানে দুটো শো দেখে ফেরত আসি। পুরো জার্নিতে এই একটাই অভিজ্ঞতা আমার ভালো ছিল ।পরে আরেকটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । কিন্তু এইবার বিরিয়ানির প্যাকেটও দিবে না। তাই আমিও চলে আসি , কিন্তু রোহিত থেকে যায় । বাসায় ফেরত আসতে বিকাল ৪টা বেজে যায়। রাত নয়টার দিকে রোহিত মেসেঞ্জারে আমাকে একটা ছবি পাঠায় , একটা সুন্দর মেয়ের সাথে দাঁড়িয়ে আছে । দেখে তো আমি পুরাই টাস্কি । পরে জানতে পারি মেয়েটা বয়সে বড়। আপুটা সেদিনের অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিল । মনে মনে ভাবি , আল্লাহ খালি আমার সাথেই এরকম করে । আমার বেলায় যত আলতু ফালতু মানুষ জোটে । গা গতরে সেই পরিমাণ জ্বলছিলো আমার । পরের দিন ঘুম ভাংলো রোহিতের কল পেয়ে । দেখি নয়টা বাজে । তারাতারি দৌরে গিয়ে টি শার্ট গায়ে দিয়ে , হালকা নাস্তা করে বেড়িয়ে পরি । গিয়ে দেখি বাস নেই । আধ ঘন্টা হয়ে যায় , বাস আসার নাম নেই । পরে বি আর টি সি এর একটা বাসে কল্যানপুর যাই । সেখান থেকে আরেকটা বাসে করে জাদুঘরের মোড়ের সামনে নামি। জাদুঘরে ঢুকলে স্যারের সাথে দেখা হয় । তিনি জিজ্ঞেস করে আমি টাকা পেয়েছি কিনা ? দ্বিতীয় বারের মত টাস্কি খেয়ে জিজ্ঞেস করলাম কিসের টাকা ? তিনি বললেন আগের দিন নাকি রাতের বেলা প্রতিযোগিদেরকে খাওয়ার খরচ দেওয়া হয়েছে । তাও আবার ৬০০ টাকা । এমনিতেই  ওই সুন্দর আপুটার সাথে দেখা করতে না পেরে মেজাজটা খারাপ ছিল । এখন এই খবর শুনার পর ইচ্ছা হচ্ছিল সব কিছু ছেড়ে চলে আসি। তবে, স্যার কিউরেটরের সাথে কথা বলে পরে আমার টাকাটা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় ।

Author: Umar SK Pathan

Computer Programmer, Blogger, Advertiser, Activist , Student Journalist

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s